শনিবার, ৪ নভেম্বর, ২০১৭

মুকুল রায় বিজেপিতে যোগ দেবার পর দলে কি কি চলছে

নিচের প্রতিবেদন দুটি পড়লে সব জানতে পারবেন |
মুকুলকে দলে নিতে কে সবচেয়ে বেশি উৎসাহী ছিলেন, উদ্দেশ্যই বা কী
মুকুল রায় বিজেপিতে যোগ দিলেন। তাকে বিজেপিতে আনতে কে লড়ে গেলেন শেষ পর্যন্ত।মুকুল রায় বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জন্য হত্যে দিয়ে দিল্লিতে পড়েছিলেন। বাংলার নেতারা কেউ বলছিলেন, ‘‘আমাদের সঙ্গে কথা হয়নি মুকুলের।’’ আবার কেউ বলছিলেন, ‘‘সিদ্ধান্ত যা নেওয়ার কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব নেবেন।’’অন্য দিকে পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত জাতীয় সাধারণ সম্পাদক কৈলাস বিজয়বর্গীয় প্রথমে বলেছিলেন, মুকুলের বিজেপিতে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব রাজ্য নেতৃত্ব বিচার করবেন, দরকার হলে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তাদের মতামত জানাবেন।


কার্যক্ষেত্রে দেখা গেল রাজ্য নেতৃত্ব নয়, মূলত কৈলাস বিজয়বর্গীয়ের উৎসাহে ও উদ্যোগেই মুকুলের হাতে পদ্ম ফুটল। একপ্রকার তাঁর জেদেই যেন মুকুলকে গেরুয়া শিবিরে বরণ করে নেওয়া হল।মুকুলকে নিয়ে অমিত শাহ যে এই মুহূর্তে খুব উৎসাহী ছিলেন, তা নয়। ২৮ অক্টোবর দিল্লিতে থেকেও তিনি মুকুলের সঙ্গে দেখা করেননি। আর শনিবার মুকুলের যোগদানের দিন দলীয় সদর দফতরে থেকেও সাংবাদিক সম্মেলনে আসেননি মুকুলকে বরণ করে নিতে।

সম্ভবত দলের সভাপতির নির্দেশে আইনমন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ নমো নমো করে মুকুলের হয়ে দু’চার কথা বলে মঞ্চ ছেড়েছেন সাংবাদিক বৈঠকের মাঝেই। দেখা যায়নি রাজ্যের কোনও শীর্ষ নেতাকেও। পরে অমিত শাহের সঙ্গে মুকুলের দেখা করার সময় রাজ্যের প্রতিনিধি বলতে উপস্থিত ছিলেন চন্দ্র বোস।

কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্দেশে কলকাতায় মুকুল নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করতে বাধ্য হলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি। তাঁর কথাতেও মুকুলকে নিয়ে খুব বেশি উৎসাহ দেখা যায়নি। ফলে কৈলাসের ব্যক্তিগত উৎসাহকে অস্বীকার করার কোনও জায়গা নেই। কিন্তু তিনিই বা মুকুলকে নিয়ে লড়ে গেলেন কেন? এক কথায় নিজের ব্যর্থতা ঢাকতেই তিনি এই উদ্যোগ নিলেন। একই সঙ্গে রাজ্য বিজেপি নেতাদের অপদার্থতাও সামনে আসলো। অবশ্য এটা শুধু কৈলাসের একার ব্যর্থতা নয়। এই ব্যর্থতার দায় বাংলার দায়িত্বপ্রাপ্ত নতুন ও পুরনো, সব কেন্দ্রীয় নেতাদেরই। ২০১৪ সালের মোদী-ম্যাজিকে ভর করে বিজেপির অনুকূলে পশ্চিমবঙ্গে হাওয়া উঠেছিল। প্রাপ্ত ভোটের শতাংশও বেড়েছিল। তা সাম্প্রতিক নির্বাচনেও দেখা গিয়েছে।

কিন্তু যা ভোট আসছে তা বিরোধী সিপিএম-এর ভোট কেটেই। মমতার ভোট ব্যাঙ্কে এখনও থাবা বসাতে পারেনি বিজেপি।  সেই থাবা বসানোর কাজটা শুধুই ‘হাওয়া’ দিয়ে সম্ভব নয়। দরকার তৃণমূল স্তরে নিপুণ সংগঠনের। অথচ এত চেষ্টা করেও না তো কৈলাস, না রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব— কেউই সংগঠনকে চাঙ্গা করতে পারেননি।  এই কাজটা করার জন্যই মুকুলকে দরকার কৈলাসের। তিনি জানেন মুকুল বাংলার রাজনৈতিক মাটি নিজের হাতের তালুর মতো চেনেন। তৃণমূলের সংগঠনের পিছনে তাঁর যে হাত রয়েছে, সে কথাও বিজেপি নেতারা স্বীকার করেছেন। মুকুলের সেই দক্ষতাকে কাজে লাগাতে চান কৈলাসরা। সেটা করতে গিয়ে কী কী চ্যালেঞ্জ আসবে মুকুল ও বিজেপি নেতৃ্ত্বের কাছে, তা অবশ্য পরবর্তী বিতর্কের বিষয়।

সোর্স : এবেলা


মুকুলের যোগদান নিয়ে অপমানে ফুঁসছে রাজ্য বিজেপি

 দিল্লির ভয়ে মুখে হাসি রেখে স্বাগত জানাতে হচ্ছে। মিডিয়ার সামনে পক্ষে বলতে হচ্ছে। কিন্তু দিল্লি যেভাবে রাজ্য নেতাদের না ডেকে, মঞ্চে না রেখে মুকুল রায়কে দলে নিয়েছেন তাতে অপমানে ফুঁসছে রাজ্য বিজেপি। কৈলাস বিজয়বর্গীয়কে সেটা জানানোও হবে। এক নেতার কথায়,” ভালই হল। এবার সব দায়িত্ব মুকুল রায় আর দিল্লির!”

বাকি আমজনতার মত টিভিতেই মুকুলবরণ দেখতে হয়েছে রাজ্য নেতাদের। এক পদাধিকারীর কথা : ” রাজ্য সভাপতি দিলীপদা, কেন্দ্রীয় সম্পাদক রাহুলদা, রাজ্যের মন্ত্রী, সাংসদ কাউকে রাখা হল না যোগদান মঞ্চে। এটা দিলীপদা, রাহূলদার প্রাপ্য ছিল না। দিল্লি যেন বুঝিয়ে দিল ওঁদের কোনও গুরুত্ব নেই। এটা স্বাস্থ্যকর শুরু হল না মুকুলবাবুর।”

বস্তুত নিজেদের সমর্থকদের কাছে খুব ছোট হতে হয়েছে রাজ্য বিজেপি নেতাদের। এবার দলে ভাল যা হবে কৃতিত্ব মুকুলের।

শোনা যাচ্ছে মুকুল দলের সর্বভারতীয় সহ সভাপতি হবেন। এও শোনা যাচ্ছে রাজ্য বিজেপিতে বড়সড় রদবদল আসন্ন।

আপাতত সামনে 10 নভেম্বর  ধর্মতলার জনসভা। নিশ্চিতভাবেই সকলকে ম্লান করে দিয়ে সেদিন মূল তারকা মুকুল । তারপর মুকুল জেলাসফর শুরু করবেন।

মুকুল-লকেট জুটি সাড়া ফেলবে বলে দিল্লির ধারণা। লকেট অপারেশনের পর ভাল আছেন। মুকুলের সঙ্গে সম্পর্ক ভাল।

রাজ্যের একাধিক নেতার বক্তব্য, যদি এভাবে পুরোন সিনিয়রদের উপেক্ষা ও অপমান করে দিল্লি “তৎকাল বিজেপির” গুরুত্ব বাড়ায়, তাহলে কাজ করাই মুশকিল। অনেকেই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। বহু কর্মী সরাসরি মুকুলমুখী হয়ে যেতে শুরু করেছেন। দলের ভিতরের সমীকরণ বদলাচ্ছে। মুকুল যাদের আনবেন, দলের বিভিন্ন স্তরে পদ দেওয়া হবে। যদিও মুকুলশিবিরের খবর মুকুল সব পুরোন সিনিয়রকেই সম্মান দিয়ে চলবেন।

মুকুল কলকাতায় ফিরে পার্টি অফিস যাবেন। তাঁর বসার জায়গা তৈরির নির্দেশ এসেছে। সব নেতা পাশে থেকে হাসিমুখে ছবি তুলবেন। কিন্তু প্রাথমিক জৌলুসের আড়ালে যে ভয়ানক ক্ষোভের বীজবপন হয়ে রইল , তা এখনই স্পষ্ট হয়ে গেছে। মুকুলকে এই সমস্যার মোকাবিলা করতে হবে।

রাজ্যের পরিবর্তন নিয়ে আন্দোলনের আগে রাজ্য বিজেপির অন্দরমহলের পরিবর্তন নিয়ে কৌতূহল বেশ বড় হয়ে উঠছে।
সোর্স : বিশ্ববাংলাসংবাদ


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

জনপ্রিয় সংবাদ