শনিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৭

হ্যামিল্টনগঞ্জ কালী পূজোর মেলা ও একটি মানবিক মুখ

সার্কাস
শিশুদের সঙ্গে সার্কাসে রঞ্জিতবাবু
প্রতি বছরই তিনি  এই কাজটি করে থাকেন। শুরু করেছিলেন সেই গত এগারো বছর আগে। বাঙালির মহাপর্ব দুর্গাপূজা কালীপূজা লক্ষী পূজা ভাইফোঁটা। কিন্তু কেউই  ওদের বুকে জড়িয়ে ধরে না যতই মহাপর্ব আসুক না কেন, কারন ওরা যে অনাথ শিশু। এই সংসারে ঐ অনাথ আশ্রম ছাড়া ওদের আর কোন জায়গা নেই।

হামিল্টনগঞ্জ মেলার আকর্ষণ সব বয়সীদের মধ্যেই রয়েছে। কয়েক হাজার ছোট ছেলেমেয়েরা বাবা মার হাত ধরে দেখতে এবং উপভোগ করতে আসে এই মেলার আনন্দ।

কিন্তু ওদের অর্থাৎ হ্যামিলটন গঞ্জের ফরোয়ার্ড নগর উত্তরায়ণ অনাথ আশ্রমের আবাসিক কিশোরীদেরও তো মেলা ঘোরার শখ হয়। মেলার আনন্দ থেকে যাতে ঐ শিশুরা বঞ্চিত না হয় সেই ভাবনা থেকে প্রতিবছর ওই অনাথ আশ্রমের আবাসিকদের মেলা ঘোরাবার  দায়িত্বটি নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন হ্যামিলটন গঞ্জের প্রখ্যাত সমাজসেবী শ্রী রঞ্জিত ঘোষ।

গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আশ্রমের অনুমতি নিয়ে ২৩ জন আশ্রম আবাসিকাকে  তিনি মেলা ঘুরিয়ে দেখালেন। সার্কাস থেকে নাগরদোলা কোন কিছু দেখাতেই তিনি কার্পণ্য করেননি। মেলার সবকিছুই  শিশুদের দেখিয়ে তাদের নির্মল আনন্দ দান করার চেষ্টা করেছেন। ঐ আবাসিকদের মনে দেশপ্রেম জাগ্রত করার উদ্দেশ্যে হামিল্টনগঞ্জ বাসস্ট‍্যান্ড লাগোয়া শহীদ বেদিতে ওই শিশুদের হাত দিয়ে মোমবাতি প্রজ্জ্বলনেরও ব্যবস্থা করেন।

মেলা ঘরানো শেষ হলে প্রত্যেক শিশুকে একটি করে কলম উপহার দেন। একটি বাংলা ও একটি ইংরেজি শব্দকোষ সম্মিলিতভাবে ব্যবহারের জন্য ওই শিশুদের উপহার দেন। সর্বশেষে প্রতিটি শিশুকে মিষ্টিমুখ করান।

রঞ্জিতবাবু বলেন প্রতি বৎসর মেলা শুরু হলে ঐ অনাথ শিশুদের মেলা ঘুরিয়ে আনন্দ দিতে ইচ্ছা করে। মেলা ঘুরে ওদের মুখে খুশির হাসি ফুটে ওঠে, সেটা দেখে মনে খুব শান্তি পাই।

অনাথ আশ্রমের গেটে

শহীদ বেদীতে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন

শব্দকোষ প্রদান

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

জনপ্রিয় সংবাদ