শনিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৭

জয়ললিতার বাড়িতে ঢুকল আয়কর দফতর

Jaya
যদিও তাঁর জীবীতকালে হয়েছিল। কিন্তু, আদালতের নির্দেশে নিজেকে নিস্কন্ঠক প্রমাণ করে আসার পর কেউ তাঁর পোয়েস গার্ডেনের অন্দরমহলে ঢুকে কোনও খানা তল্লাশি নিতে পারেনি। কিন্তু, আম্মা-র প্রয়াণের বর্ষপূর্তি হতে না হতেই তাঁর বাড়িতে ফের হল খানা তল্লাশি। আর এই তল্লাশি-র সূতিকা হিসাবে কাজ করল আম্মার বান্ধবী শশীকলার দুর্নীতি। যার জেরে ফের একবার মহানাটকীয় রাতের সাক্ষী হল তামিলনাড়ু।

যদিও দিন কয়েক ধরেই চেন্নাই-এর শশীকলা ও তাঁর আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে তল্লাশি চালাচ্ছিল আয়কর দফতর। বৃহস্পতিবার থেকে এই তল্লাশির মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছিল তারা। শশীকলার ১৮৭টি ঠিকানায় চলেছিল তল্লাশি। সবমিলিয়ে শশীকলার ১৪৩০ কোটি টাকার সম্পত্তির হদিশ মেলে বলে দাবি করে আয়কর দফতর। এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার লেক্সাস গাড়ি আমদানী দুর্নীতি মামলায় শশীকলার স্বামী দিনাকরণের উপরে মাদ্রাজ হাইকোর্ট ২ বছরের কারাবাসের সাজা বহাল রাখে। এরপরই শুক্রবার রাত ৯.৩০টা নাগাদ এআইএডিএমকে-র প্রাক্তন প্রধান জয়ললিতার পোয়েস গার্ডেনের বাড়িতে তল্লাশি শুরু করে আয়কর দফতর। এআইএডিএমকে-এর প্রাক্তন প্রধান তথা রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতার বাড়িতে তল্লাশির খবর জানতে পেরে সেখানে পৌঁছে যান জয়ললিতার ভাইপো বিবেক জয়রামন। এই ভাইপোর নামেই রয়েছে জয়ললিতার ব্যবসা। 
 
বিবেক জয়রামন আবার জয়ললিতার টিভি চ্যানেল জয়া টিভি-র সিইও। আয়কর দফতর সূত্রে খবর, পোয়েস গার্ডেনে জয়ললিতার বাড়ি ভেদা নিলায়ালাম-এ মোট তিনটি ঘরে তল্লাশি চলে। এর মধ্যে দু'টি ঘর শশীকলা ব্যবহার করতেন। অপর একটি ঘর জয়ললিতার ব্যক্তিগত সচিব পুনগানড্রান-এর। আয়কর দফতরের এক আধিকারিক জানান, গোপন সূত্রে তাঁদের কাছে খবর ছিল পোয়েস গার্ডেনে জয়ললিতার বাড়িতে শশীকলা যেখানে থাকতেন সেখান থেকে বেশকিছু ইলেক্ট্রনিক্স ডিভাইস রাতারাতি সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এরপরই এই তল্লাশির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আয়কর দফতরের ৪টি বিভাগ এই তল্লাশিতে অংশ নিয়েছিল। এক একটি দলে ছিলেন কম করেও ২০ জন করে অফিসার। আয়কর দফতরের অফিসাররা জানিয়েছেন, তাঁরা জয়ললিতার বাড়িতে শশীকলার ঘর থেকে একটি ল্যাপটপ, একটি ডেক্সটপ, চারটি পেন ড্রাইভ আটক করা হয়েছে। তবে, জয়ললিতা যে দিকে থাকতেন সেদিকে এবং ভেদা নিলায়ালাম-এর বাকি ঘরগুলিতে আয়কর অফিসাররা পা মাড়াননি বলেই দাবি করা হচ্ছে। জয়ললিতার প্রয়াণের পর থেকেই শশীকলা পোয়েস গার্ডেনের এই বাড়িতে টানা থাকছিলেন। সুপ্রিম কোর্ট দুর্নীতি মামলায় সাজা বহাল রাখার পর এই বাড়ি থেকেই সোজা জেলে গিয়েছিলেন শশীকলা। আয়কর তল্লাশির সময় জয়ললিতার ভাইপো এবং জয়া টিভি-র এমডি ও সিইও বিবেক জয়রামনকে বাড়ির ভিতরে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তাঁর সঙ্গে ছিলেন শশীকলার আইনজীবী। 
 
তবে, জয়ললিতার ভাইঝি দীপাকে কোনওভাবেই ভিতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। জয়ললিতার পোয়েস গার্ডেনের বাড়িতে আয়কর দফতরের তল্লাশি শুরু হতেই আম্মাপন্থী নেতা-নেত্রীরা প্রতিবাদে সরব হন। বিভিন্ন টিভি নিউজ চ্যানেলে এই নিয়ে তাঁরা জোর প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। পুরো বিষয়টিকে রাজনৈতিক চক্রান্ত বলেও অভিযোগ করা হয়। জয়ললিতার বাড়িতে আয়কর তল্লাশির জন্য তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী পালানিস্বামীর দিকেও অনেকে আঙুল তোলেন। আম্মার দলের শরণে থেকে এবং সেখান থেকে মুখ্যমন্ত্রী হয়ে কীভাবে আয়কর দফতরকে পোয়েস গার্ডেনে ঢুকতে দেওয়া হল তা নিয়ে প্রতিবাদে সরব হন অনেক নেতা-নেত্রী। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিও তামিলনাড়ু সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তোলেন এবং সরকারের পদত্যাগও দাবি করেন। শশীকলাপন্থী নেতা-নেত্রীরাও পোয়েস গার্ডেনের কাছে রাস্তায় রাতের বেলায় অবস্থানে বসে পড়েন। এর জন্য ওই এলাকায় বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করতে হয়। পোয়েস গার্ডেনমুখী সমস্ত রাস্তা ব্যারিকেড করে দেয় পুলিশ। গভীররাতে তল্লাশি শেষ হতেই পোয়েস গার্ডেন ছেড়ে বেরিয়ে যান আয়কর দফতরের অফিসাররা।
সৌজন্যে : ওয়ানইন্ডিয়া

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

জনপ্রিয় সংবাদ