বৃহস্পতিবার, ৪ জানুয়ারী, ২০১৮

মমতার বিরুদ্ধে এফআইআর অসমে, গ্রেফতারের দাবি

অসমের সরকার থেকে বিরোধীপক্ষ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য নিয়ে এক সুরেই সমালোচনা করছে সবাই। এর মধ্যেই সে রাজ্যের দিসপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে। 'কৃষক শ্রমিক কল্যাণ পরিষদ'-এর তরফে অভিযোগ করা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের অবমাননা করেছেন মমতা। সেই সঙ্গে অসমে জাতি বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে গ্রেফতারের দাবি তুলেছে তারা।

অসমের জাতীয় নাগরিক পঞ্জির (এনআরসি) প্রথম খসড়া ঘিরে উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ে বুধবার মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বীরভূমের জনসভায় ঘোষণা করেন, ''বাঙালিদের গায়ে হাত পড়লে আমি ছেড়ে কথা বলব না।''
গত ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যরাতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ও তত্ত্বাবধানে এনআরসির প্রথম খসড়াটি প্রকাশ হয়েছে। প্রায় সওয়া তিন কোটি আবেদনের মধ্যে ১ কোটি ৯০ লক্ষ মানুষের তথ্যপ্রমাণ যাচাই করার পর এই খসড়া তৈরি হয়েছে। এই 'বিদেশি বাছাই' নিয়ে সরব অসমের বরাক ও ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার বিভিন্ন বাংলাভাষী সংগঠন। মমতারও আশঙ্কা, এর পরে অসমের বাঙালিদের উপরে আঁচ পড়বে। এবং ''অসম পশ্চিমবঙ্গের প্রতিবেশী রাজ্য। সেখানে গোলমাল হলে তার প্রভাব আমাদের রাজ্যেও পড়বে,'' বলেছেন মমতা। কেন্দ্র ও অসমের বিজেপি সরকারের নাম না করেই এ দিন তাঁর হুঁশিয়ারি, ''আগুন নিয়ে খেলবেন না।''
অসমের শাসক দল বিজেপি, বিরোধী দল কংগ্রেস-সহ অসমের সব দলের নিশানাতেই এখন মমতার এই মন্তব্য। বিজেপির তরফে বলা হয়, মমতা হয় নাগরিক পঞ্জি ব্যাপারটা বোঝেনই নি, না হলে ইচ্ছাকৃতভাবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সিদ্ধির জন্য এমন মন্তব্য করেছেন। বিজেপি মুখপাত্র রূপম গোস্বামীর মতে, মমতা নিজে ভোট ব্যাঙ্ক মজবুত করতে বাংলাদেশিদের পশ্চিমবঙ্গে আশ্রয় দিয়েছেন। এখন অসম বিদেশিমুক্ত রাজ্য তৈরির জন্য যে পদক্ষেপ করছে তা যদি বাংলাতেও লাগু হয় তাহলে দিদির ভোটব্যাঙ্ক শেষ হয়ে যাবে। সেই ভয়েই হয়ত এমন সব উক্তি। বিজেপির দাবি, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে হওয়া আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে এমন মন্তব্য খোদ সুপ্রিম কোর্টের অবমাননা।
যে সংগঠনের করা অসম আন্দোলনের ফলশ্রুতি এনআরসি, সেই 'আসু'র সাধারণ সম্পাদক লুরিণজ্যোতি গগৈয়ের মতে, "অসমের অস্তিত্বরক্ষা নির্ভর করে রয়েছে এনআরসির উপরে। অবৈধ ভাবে রাজ্যে বসবাসকারীদের চিহ্নিত করার জন্য সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে ও নির্দেশে কাজ হয়েছে। একজন দায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যক্তির এমন হঠকারী মন্তব্য করা অনুচিত। এমন স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে রাজনীতি করা অন্যায়।"  বাকিটুকু এখানে পড়ুন
 সৌজন্যে : আনন্দবাজার পত্রিকা  

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

জনপ্রিয় সংবাদ