শনিবার, ২৮ অক্টোবর, ২০১৭

গুরুংয়ের ছায়াসঙ্গী পদচ্যুত, যুব মোর্চা থেকে

বরুণ ভুজেলের মরদেহ নিয়ে মিছিল। কালিম্পঙে
বরুণ ভুজেলের মরদেহ নিয়ে মিছিল। কালিম্পঙে
মিডিয়া খবরে প্রকাশ পদচ্যুত করা হল গোর্খা জনমুক্তি যুব মোর্চার সভাপতি প্রকাশ গুরুংকে। বিমল গুরুংয়ের ছায়াসঙ্গী বলে পরিচিত প্রকাশ গুরুংকে সংগঠন থেকে সরিয়ে দেওয়া মানে যুব মোর্চা পুরো গুরুংয়ের হাত থেকে বেরিয়ে যাওয়া। সেটাই হয়েছে। প্রকাশকে সরিয়ে নতুন করে যে ৬১ জনের যুব মোর্চার কমিটি গঠন হয়েছে, তাঁরা বিনয় তামাংকে সমর্থনের কথা জানিয়ে দিয়েছেন।
কমিটির নতুন সভাপতি করা হয়েছে অমৃত ইয়ঞ্জনকে, যিনি এর আগে সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। কার্যকরী সভাপতি করা হয়েছে সমরজিৎ ব্লোনকে। সম্পাদকের পদে বসেছেন তিলক ছেত্রি। এঁরা সবাই কমবেশি বিনয়পন্থী। এদিন সংগঠনের দার্জিলিং মহকুমা দপ্তরে বৈঠক করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই ঘটনা পাহাড়ে বিনয় শিবিরকে আরও মজবুত করতে সাহায্য করবে। এর আগে মোর্চার ছাত্র সংগঠন গুরুংয়ের হাত থেকে বেরিয়ে গেছে। যা পরিস্থিতি, তাতে শ্রমিক সংগঠনও পুরো বিনয়ের দিকেই ঝুঁকে আছে এখন। তবে সামান্য সুযোগ পেলেই গুরুং পাহাড়ে প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

জানা যাচ্ছে যে এদিনও বরুণ ভুজেলের মৃত্যুর প্রতিবাদ মিছিলে শামিল হয়ে গুরুংপন্থী মোর্চা সহানুভূতি টানার চেষ্টা করে। সেখানে কালিম্পঙের সাধারণ মানুষের সঙ্গে জাপের কর্মী–সমর্থকেরাও ছিলেন। এই সুযোগে কালিম্পঙে মোর্চার পার্টি অফিসে এদিন ফের গুরুংয়ের ছবি লাগানো দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। কিছুদিন আগেই বিনয়পন্থীরা কালিম্পঙের পার্টি অফিস থেকে গুরুংয়ের ছবি সরিয়ে নিজেদের দখলে নিয়ে নেন। এদিন সেখানে ফের গুরুংপন্থীরা দখল নেওয়ার চেষ্টা করেন। আসলে বিভিন্ন দিক থেকে ক্রমশ একলা হয়ে পড়তে থাকায় বিমল গুরুং সুযোগ পেলেই কামড় দেওয়ার চেষ্টা করছেন। সেটাকে সমর্থন জুগিয়ে যাচ্ছে বিজেপি। এদিনও বিজেপি–‌র রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ শিলিগুড়িতে পাহাড়ের প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে জানান, পাহাড়ের মানুষ গুরুংকেই নেতা হিসেবে মান্যতা দেন, বিনয়কে গদ্দার মনে করেন।

তিনি এর পর রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগে বলেন, ‘‌তৃণমূল জোর করে বিনয়কে নেতা বানানোর চেষ্টা করছে। পুলিস দিয়ে, পয়সা দিয়ে, লোক দিয়ে নেতা বানানো যায় না। বিমল গুরুং দীর্ঘদিন আন্দোলন করে নেতা হয়েছেন।’‌ এদিন জনআন্দোলন পার্টি পাহাড়ে বরুণ ভুজেল স্মরণে কালিম্পঙে মোমবাতি মিছিল করে। জাপের তরফে এই মৃত্যুর জন্য এনআইএ বা সিবিআই তদন্ত দাবি করা হয়েছে। এদিকে পাহাড়ে আপাতত অশান্তি সেভাবে নেই। ভেতরে ভেতরে চাপা গুঞ্জন চলছে শুধু। এই মুহূর্তে পাহাড়ে বাঙালি পর্যটকদের সংখ্যা সেভাবে নেই। তবে অবাঙালি পর্যটকের সংখ্যা ভালই আছে। এদিন শুধুমাত্র টাইগার হিলেই ৩০০ পর্যটক সুর্যোদয় দেখতে হাজির হয়েছিলেন।‌

সৌজন্যে : আজাকাল

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

জনপ্রিয় সংবাদ